কমলগঞ্জে নিম্নাঞ্চলে বন্যায় ৫০ পরিবার পানিবন্দি, দুর্ভোগ এসএসসি পরীক্ষার্থী

কমলগঞ্জে নিম্নাঞ্চলে বন্যায় ৫০ পরিবার পানিবন্দি, দুর্ভোগ এসএসসি পরীক্ষার্থী

ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুন্সিবাজারে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি এবং ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহদ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, গত কয়েকদিনে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মুন্সিবাজার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ বন্ধ হয়ে পড়ে। শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের পাশে রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন ৪০ মিনিট আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজারো যাত্রীরা। এরআগে গত রোববারের কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ লাইন ও ব্যাপক গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে।

টানা বৃষ্টিপাতে ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানিতে মুন্সিবাজার ও পতনঊষারের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ধলাই, লাঘাটা নদীসহ পাহাড়ি ছড়া সমুহে পানি বিপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রজত কুমার বলেন, ঝড়ে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট এলাকায় রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন লংলা স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে।

মুন্সীবাজার কালিপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, ঝড়ের কারনে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মঙ্গলবার এই কেন্দ্রে সরবরাহ ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা অসুবিধা দেখা দেয়। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদ সীমার দেড়ফুট নিচে রয়েছে। নদনদীর পানি সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ঝড় ও বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলে কেওলার হাওরে কিছু বোরোধান নিমজ্জিত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও গাছগাছালি ভেঙ্গে সড়কপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff